সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
এস এম ইরফান নাবিল :
ইসি ও আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পেছানো বা সূচি পুনর্নির্ধারণের পেছনে বেশ কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো—
শিক্ষা ব্যবস্থার জট ও বন্যার প্রভাব : সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হয়ে যাওয়া বন্যার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটেছে। শিখন ঘাটতি ও নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করার জন্য স্কুল-কলেজগুলোকে অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষার সময় দিতে হচ্ছে।
শিক্ষক ও অবকাঠামোর সং/কট : ইউপি নির্বাচন পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় স্থানীয় স্কুল-কলেজ। সেই সঙ্গে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে শিক্ষকদের বি/শাল ভূমিকা থাকে। প্রতিটি ধাপের ভোটের জন্য একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও নির্বাচনের মূল ডিউটি মিলিয়ে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য একাডেমিক কাজ থেকে সরিয়ে রাখতে হয়। টানা নির্বাচনের কাজে শিক্ষকদের নিয়োজিত রাখলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, খাতা মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক কাজ থেমে যাবে।
বাজেট ও সাচিবিক সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাজেট পরি/কল্পনা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাজেট ও জনবল সমন্বয় নিশ্চিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া।
শিক্ষা ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বাধা
ইসি জানিয়েছে, শিক্ষাপঞ্জি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শেষভাগ থেকে আগামী বছ/রের মে মাস পর্যন্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অত্যন্ত আঁটসাঁট।
নভেম্বর-ডিসেম্বর : এই দুই মাসজুড়ে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক এবং প্রাক-নির্বাচনী পরী/ক্ষাগুলো চলবে। ফলে এই সময়ে পর্যাপ্ত স্কুল ভবন ও শিক্ষকদের ফ্রি পাওয়া অসম্ভব।
জানুয়ারি : এই সময়টিতে পরীক্ষার ফলা/ফল প্রকাশ ও নতুন শ্রেণিতে ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা চলে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় মিললেও তা পুরো সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের জন্য যথেষ্ট নয়।
ফেব্রুয়ারি-মার্চ : আগামী ৭ অথবা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রম/জান মাস। রমজান ও ঈদের টানা ছুটির মধ্যে এত বড় আকারের নির্বাচন আয়োজন করা বাস্তবিকভাবেই অসম্ভব।
মার্চ-মে: রোজা ও ঈদের ছুটি শেষ হওয়া মাত্রই সারা দেশে শুরু হয়ে যাবে এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষার সময় সারাদেশের হাজা/র হাজার কেন্দ্র ও শিক্ষক সরাসরি ব্যস্ত থাকবেন।
জুন: আগামী বছরের ৬ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি ও সমমানের পরী/ক্ষা। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা আবারও পুরোপুরি সেখানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
আপনার মন্তব্য লিখুন